১. শ্রীভগবানকে দেখার উপায় কি? তার চিন্ময় ধামে যাওয়ার উপায়
কি?
উত্তরঃ
ভক্ত্যা ত্বনন্যয়া শক্য অহমেবং বিধোহর্জুন।
জ্ঞাতুং দ্রষ্টুং চ তত্ত্বেন প্রবেষ্টুং চ পরন্তপ ।।
(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-১১ শ্লোক-৫৪)
জ্ঞাতুং দ্রষ্টুং চ তত্ত্বেন প্রবেষ্টুং চ পরন্তপ ।।
(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-১১ শ্লোক-৫৪)
# সরলার্থঃ হে অর্জুন! হে পরন্তপ ! অনন্ত ভক্তির দ্বারাই
কিন্তু আমাকে এই প্রকার তত্ত্বত জানতে, প্রত্যক্ষ করতে এবং আমার চিন্ময় ধামে প্রবেশ
করতে সমর্থ হয়।
২. শ্রীভগবান কোথায় অবস্থান
করেন?
উত্তরঃ
পুরুষঃ স প্রঃ পার্থ ভক্ত্যাভস্তনন্যয়া।
যস্যান্তঃস্থানি ভূতানি যেন সর্বমিদং ততম।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-৮ শ্লোক-২২)
যস্যান্তঃস্থানি ভূতানি যেন সর্বমিদং ততম।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-৮ শ্লোক-২২)
#সরলার্থঃ
হে পার্থ! সর্বশ্রেষ্ঠ পরমেশ্বর ভগবানকে অনন্যা ভক্তির মাধ্যমেই কেবল লাভ করা যায়
তিনি যদিও তার ধামে নিত্য বিরাজমান, সর্বব্যাপ্ত এবং সবকিছু তার মধ্যেই অবস্থিত।
৩. শ্রীভগবান কি সকলের প্রতি
সমভাবাপন্ন? নাকি কারো প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেন?
উত্তরঃ
সমোহহং সর্বভূতেষু নমে দেষ্যোহস্তিন প্রিয়ঃ।
যে ভজন্তি তু মাং ভক্ত্যাময়ি তে তেষু চাপ্যহম।।
(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায়-৯ শ্লোক-২৯)
যে ভজন্তি তু মাং ভক্ত্যাময়ি তে তেষু চাপ্যহম।।
(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অধ্যায়-৯ শ্লোক-২৯)
#সরলার্থঃ
আমি সকলের প্রতি সমভাবাপন্ন। কেউ আমার বিদ্বেষভাবাপন্ন নয় এবং প্রিয়ও নয়। কিন্তু
যারা ভক্তিপূর্বক আমার ভজনা করেন, তারা আমাতে অবস্থান করেন এবং আমিও তাদের মধ্যে বাস করি।
৪. “যারা অন্য দেবতাদের পূজা করে
তারা অবিধিপূর্বক শ্রীভগবানেরই পূজা করে।” তাই নয় কি?
উত্তরঃ
যেহপ্যন্যদেবতাভক্ত্যা যজন্তে
শ্রদ্ধ্যয়ান্বিতাঃ।
তেহপি মামেব কৌন্তেয় যজন্ত্যবিধিপূর্বকম।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা অধ্যায়-৯ শ্লোক-২৩)
#সরলার্থঃ
হে কৌন্তেয় ! যারা অন্য দেবতাদের ভক্ত এবং শ্রদ্ধাসহকারে তাদের পূজা করে
প্রকৃতপক্ষে তারা অবিধিপূর্বক আমারই পূজা করে।
৫. “শ্রীভগবান ভক্তপ্রদত্ত
ভালবাসার সামগ্রী যত তুচ্ছই হোক তা সাদরে গ্রহণ করেন।” কথাটা কতটুকু সত্য?
উত্তরঃ
পত্রং পুষ্পং ফলং তোয়ং যে মে ভক্ত্যা
প্রযচ্ছতি।তদহং ভক্ত্যুপহৃতমশ্ন্যামি প্রযতাত্মনঃ ।।(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতা অধ্যায়-৯ শ্লোক-২৬)
#সরলার্থঃ
যে বিশুদ্ধচিত্ত নিষ্কামভক্ত ভক্তিসহকারে আমাকে পত্র, পুষ্প, ফল ও জল অর্পণ করেন, আমি তার সেই ভক্তিপ্লুত
উপহার প্রীতিসহকারে গ্রহণ করি।
৬. শ্রীভগবান ভক্তের জন্য কি
করার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ?
উত্তরঃ
অনন্যাশ্চিন্তয়ন্ত মাং যে জনা পর্যুপাসতে।
তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-৯ শ্লোক-২২)
#সরলার্থঃ
অনন্যচিত্তে আমার চিন্তায় মগ্ন হয়ে, পরিপূর্ণ ভক্তিসহকারে যারা সর্বদাই আমার উপাসনা
করেন, তাদের সমস্ত অপ্রাপ্ত বস্তু আমি বহন করি এবং প্রাপ্ত বস্তু
আমি সংরক্ষণ করি।
৭. শ্রেষ্ঠ যোগী কারা?
উত্তরঃ
ময্যাবেশ্যমনোযে মাং নিত্যযুক্তা উপাসতে।
শ্রদ্ধয়াপরয়োপেতাস্তে মে যুক্ততমা মতাঃ ।।
(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-১২ শ্লোক-২)
#সরলার্থঃ
যারা তাদের মনকে আমার সবিশেষরূপে নিবিষ্ট করেন এবং অপ্রাকৃত শ্রদ্ধাসহকারে নিরন্তর
আমার উপাসনা করেন, আমার মতে তারাই সর্বশ্রেষ্ঠ যোগী।
৮. কারা শ্রীভগবানের
মনুষ্যরূপকে অবজ্ঞা করে?
উত্তরঃ
অবজানান্তি মাং মূঢ়া মানুষীং তনুমাশ্রিতম।
পরং ভাবমজানন্তো মম ভূতমহেশ্বরম্ ।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-৯ শ্লোক-১১)
পরং ভাবমজানন্তো মম ভূতমহেশ্বরম্ ।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-৯ শ্লোক-১১)
#সরলার্থঃ
আমি যখন মনুষ্যরূপে অবতীর্ণ হই তখন মূর্খেরা আমাকে অবজ্ঞা করে। তারা আমার পরমভাব
সম্বন্ধে অবগত নয় এবং তারা আমাকে সর্বভূতের মহেশ্বর বলে জানে না।
৯. নরকের দরজা কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ
ত্রিবিধং নরকেস্যদং দ্বারং নাশনমাত্মনঃ।
কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্তস্মাদেৎত্রয়ং ত্যজেৎ।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-১৬ শ্লোক-২১)
কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্তস্মাদেৎত্রয়ং ত্যজেৎ।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-১৬ শ্লোক-২১)
#সরলার্থঃ
কাম, ক্রোধ ও লোভ এই তিনটি নরকের দ্বার। অতএব এই তিনটি পরিত্যাগ
করবে।
১০. মানুষের কি করা উচিৎ এবং
কি করা উচিৎ নয়?
উত্তরঃ
তস্মাচ্ছাস্ত্রং প্রমাণং তে কার্যাকার্যব্যবস্থিতৌ।
জ্ঞাত্বা শাস্ত্রবিধানোক্তং কর্ম কর্তুমিহার্হসি।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-১৬ শ্লোক-২৪)
জ্ঞাত্বা শাস্ত্রবিধানোক্তং কর্ম কর্তুমিহার্হসি।।
(শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতাঃ অধ্যায়-১৬ শ্লোক-২৪)
#সরলার্থঃ
অতএব কর্তব্য ও অকর্তব্য নির্ধারণে শাস্ত্রই তোমার প্রমাণ। অতএব শাস্ত্রীয় বিধানে
কথিত হয়েছে যে কর্ম, তা জেনে তুমি সেই রকম কর্ম করে যোগ্য হও।


No comments:
Post a Comment