ছোটবেলায় পড়েছি সনাতন ধর্মের প্রবর্তক "আর্য ঋষিগণ"। তখন ভাবতাম সে বুঝি অনেক জ্ঞানী এক ব্যাক্তি ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বুঝতে পেরেছি "আর্য ঋষিগণ " একজন ব্যাক্তি নন। সেই সর্বপ্রাচীন যুগ থেকে ধ্যান, সাধনা, গবেষণা, তপস্যার মাধ্যমে প্রাপ্ত ঐশ্বরিক নির্দেশনা লাভ করে যে সকল মহামুনি ব্যাক্তিবর্গ জগতের কল্যাণার্থে সেই অমৃতময় জ্ঞান আমাদের দিয়েগেছেন সেই ব্যাক্তি বর্গই "আর্য ঋষিগণ" নামে কথিত হয়েছেন।
নিজের উপর খুব অস্বস্তি লাগে। কেন?
আমার ধর্মের এই মহান বিষয়াবলী গুলো সম্পর্কে কেন আমি অজ্ঞাত? কেন আমি জানার চেষ্টাটাও করিনা?
চলুন না, কোন ধর্ম ভালো, কোন ধর্ম ভালো না এইটা নিয়ে বৃথা তর্কে না গিয়ে ধর্মগ্রন্থ গুলি পড়ি, নানা শুধু পড়লেই হবে না; বোঝার, হৃদয়ঙ্গম করার, তাৎপর্য খোজার চেষ্টা করি। প্রথমে না হয় নিজ ধর্ম গ্রন্থগুলোই পাঠ করি। দেখি কি শিখায় আমাদের ধর্মগ্রন্থ গুলো। তারা তো অনেক প্রাচীন ছিলেন, তাদের শিক্ষা এখনকার সাথে সমন্বয় করা যায় কিনা?
আমার দরকার নেই সরাসরি সৃষ্টিকর্তার মুখের বাণীর, আমি চাই না পরজীবনে অসম্ভব সুখের লোভ। আমি চাই, এই জীবনেই যেন শান্তিতে চলতে পারি। সেই শান্তিতে চলতে গিয়ে যেন অন্যায়ের সাথে মানিয়ে না নিই (কারণ সেই অন্যায়ের ফলে এই জীবনেই আপনি শাস্তি পাবেন।), নিজে অন্যায় না করি। যথাসম্ভব অন্যের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দিই। কি ভাবছেন? স্বার্থগুলো না হয় একটু ত্যাগ করি, হয়তোবা সেরা না হই কিন্তু শান্তি প্রাপ্ত হই। দামী বিছানা না পাই কিন্তু ভালো ঘুম হোক, দামী খাবার না পাই, যা পাই সেটা ভালো করে আহার করতে পারি। বৈষয়িক সুখ নয় অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষ ত্যাগ করি। কর্ম করি, কর্তব্যে গাফেলতি না করি, নিজেদের সম্মান বৃদ্ধি করার চেষ্টা করি, যেন মৃত্যুর পর আমাদের উদ্দেশ্যে কেউ থুতু না ফেলে?


No comments:
Post a Comment